যে কাজ করলে মানুষ অপমানিত হয়! সকল মুসলমানের এটি জানা উচিৎ

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, যে তিনটি কাজ করলে মানুষ অপমানিত হবে হবেই হবেই, সকল মুসলমানের এই তিনটি কাজ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম, তামাম পৃথিবীর মানুষদের কে সতর্ক করে গিয়েছেন এই অভ্যাস গুলোর ব্যাপারে। এক নম্বর হচ্ছে….

অহংকার করাঃ যে অহংকার করে যার ভেতর দাম্ভিকতা আছে আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন না। হযরত লোকমান আলাইহিস সাল্লাম, তার সন্তানকে যে উপদেশগুলো দিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম একটি উপদেশ হল, বাবা মানুষদের সঙ্গে কখনো অংকার করতে নেই।

এছাড়া আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, আমি তাদের ভালোবাসি না যারা অহংকার করে। কারণ যারা অহংকার করে, তারা আল্লাহ তাআলার চাদর নিয়ে টানাটানি করার শামিল। কারণ অহংকার শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য, মানুষের জন্য কখনোই অহংকার শোভা পায় না। কারণ মানুষ কখনোই পৃথিবীতে স্থায়ীভাবে থাকবে না। তাহলে আমরা কিসের অহংকার করি?

গাড়ি আছে, বাড়ী আছে, অর্থ-সম্পদ আছে, যারা এই সবের অহংকার করেন। তারা একবার গোরস্থানে গিয়ে দেখুন, আপনার চাইতে আরো দাম্‌ দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি যারা ব্যবহার করছে তারা আজকে কবরে শুয়ে আছে। যদি কখনো আপনার গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সার অহংকার আসে তাহলে কবরস্থানে গিয়ে দেখে আসুন। সেখানে গিয়ে দেখবেন গুলশান-বনানীতে যাদের ডুপ্লেক্স বাড়ি আছে তারা আজকে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।  তাদের কি আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন না?

যে কাজ করলে মানুষ অপমানিত হয়

তাদেরকেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পছন্দ করেন। কিন্তু অহংকারীরা কখনো বিজয়ী হতে পারে না। আর যদিও অহংকারীরা বিজয়ী হয় তাহলে সেটা ক্ষণিকের জন্য। কারণ তাদের ধ্বংস অনিবার্য যেমন আপনারা জানেন 912 সালে টাইটানিক জাহাজ টি যে কোম্পানি নির্মাণ করেছিল। তারা কিন্তু বলেছিল এটা এমন একটি জাহাজ যা কখনো পানিতে ডুবতে পারেনা।

এমন সুন্দর করে মজবুত করে জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে। যেটা কেউ ঢুবাতে পারবে না, কিন্তু পরবর্তীতে কি হলো জাহাজটি যুক্তরাজ্য থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হল। তারপর সামান্য একটি আইসবার্গের সাথে সংঘর্ষ হয়ে ধ্বংস হয়ে গেলো।

যে কাজ করলে মানুষ অপমানিত হয়

তাহলে অহংকারীদের আর কি উদাহরণ বাকি রইল? যারা ধ্বংস হয়ে গেছে তারাও সবচেয়ে বেশি অহংকার করেছে। সে বলেছিল আমি হলাম সবচেয়ে বড় খোদা “নাউজুবিল্লাহ’ আমার কখনো রোগ বালাই হয় না। কারণ আমি প্রভু, তাই আমার কিছু হবে না। নাউজুবিল্লাহ কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তায়ালা তাকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছেন।

নমরুদ অহংকার করেছিল আল্লাহ তা’আলার সাথে তাকে আল্লাহতালা ধ্বংস করে দিয়েছে। সহকারীদের পতন এভাবেই হয় ক্ষমতা নিয়ে যারা হংকার করে তাদের পতন খুবই নির্মম।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে যখন আমেরিকানরা পরাজয় বরণ করলো, তারপর যখন তাদের সঙ্গীদের নিয়ে গেল তখনো এমন ঘটনা ঘটেছিল অর্থাৎ অহংকারের পতন ঠিক এভাবেই তাদের জীবনের শেষ যবনিকাপাত ঘটে।

কঠিনও নির্মমভাবে আল্লাহতালা দুনিয়াতেই অহংকারীদের শাস্তি দিয়ে থাকেন। আপনি যে শক্তির লড়াই করেই একজনকে আঘাত করলেন দেখবেন সেই হাত একদিন অচল হয়ে যাবে। যে মুখ দিয়ে হুংকার করছেন আল্লাহ তায়ালার আদেশ এসে সেই মুখ একদিন প্যারালাইসিস হয়ে যাবে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়

আমাদের সমাজে এখনো এমন কিছু মানুষ আছে যারা প্রচুর অহংকার করে এবং ক্ষমতার বরাই  করে আরেক জনকে আঘাত করতো তাদের মুখ দিয়ে কখনো ভালো শব্দ উচ্চারিত হতো না। মানুষকে কথায় কথায় তারা গালি দিত, কিন্তু আজকে তার জবান আল্লাহতায়ালা কেরে নিয়েছে। আমাদের সমাজে এখনো এরকম মানুষ জীবিত আছে যারা একসময় মানুষের সাথে দূর ব্যবহার করত। কিন্তু আজকে তাদের মুখে কোন ভাষা নেই ।

এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ আমরা দেখতে পাই চোখ কান খোলা রেখে চারপাশে তাকিয়ে দেখুন। যুবক বয়সে পিতা-মাতাকে গালিগালাজ করতো পাড়া-প্রতিবেশীদের কি সবসময় আতংকের রাখতো। আর আজ তারা হাঁটতে পারে না, চলতে পারে না, কি অবস্থা সুতরাং লাঞ্ছিত অপমানিত তারাই হবে।

আর যারা  নিরঅহংকারি তারা আমাদের সমাজে বিনয়ীভাবে কথা বলে, সতআচরণ করে।  দেখবেন তাদেরকে সকল মানুষ ভালবাসে। আর যে সকল ব্যক্তি অহংকার করে যারা প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয় সব সময় তাদেরকে মানুষ বদদোয়া দিতে থাকে।

ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম ভুল কিনা

অহংকারি মানুষের জন্য একটি এলাকায় কেউ শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারেনা। তবে তারা কিন্তু বেশিদিন টিকতেও পারেনা। একটা সময় দেখা যায় তারা নিঃশেষ হয়ে যায়। হঠাৎ করে শোনা যায় কোন ক্রসফায়ারে বা কোনো অ্যাক্সিডেনন্টে নেতার লাশ রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তার লাশ দেখার জন্য কোন মানুষ তার সামনে যায় না।

এমনকি তার জানাজা পড়তেও যায় না। কারণ তার প্রতি মানুষের হৃদয়ে শুধুমাত্র কিনা বিরাজ করে। আমাদের দেশে অহরহ ঘটে গিয়েছে যখন একাধিক মার্ডার কেসের আসামি ক্রসফায়ারে মারা যায়।  দেবেন তার লাশটা পর্যন্ত নেওয়ার জন্য কেউ যায় না।

যে কাজ করলে মানুষ অপমানিত হয়

আমাদের সমাজে এমন ঘটনা ঘটেছে, যে কোন এলাকায় একজন মানুষ মারা গেছে এবং এই খুশিতে পাড়া-মহল্লার মানুষ মিষ্টি বিতরণ করছে। তাই এদের পতন ঠিক তেমনভাবেই হয়। এজন্য “এমন জীবন তুমি করিও গঠন মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন”।

অর্থাৎ এমন জীবন গঠন করুন যাতে আপনার মৃত্যুতে সবাই আফসোস করে কিন্তু এমন জীবন আপনি গঠন করে গেলেন যেখানে যুগ যুগ ধরে মানুষ শুধুমাত্র আপনাকে অভিশাপ দিয়েছে। তাহলে কি লাভ হলো ওই জীবনে?

নেক আমল কাকে বলে ইসলামিক জটিল প্রশ্ন

পরনিন্দা করা, মানুষের সমালোচনা করা,  গীবত করা, এধরনের মানুষগুলো অপমানিত হয়। গীবত করার সময় খুব ভালো লাগে, আর শয়তান গীবত কে ব্যক্তিগত জীবনকে মসলার মত মজাদার করে রেখেছে। অথচ যতো আলোচনা করবেন ততই আলোচনাগুলো মনমুগ্ধকর মনে হবে। কিন্তু এই পৈচাশিক আনন্দ শয়তান আপনাকে দিচ্ছি আর এ কারণে আপনি দুনিয়াতে হবেন লাঞ্ছিত, আর পরকালে হবেন অপমানিত। সবাই বলবে ওই লোকটা খুবই চিটিংবাজ।

সে পেছনে মানুষের সমালোচনা করেছে মানুষের কাছে ঘুরে ঘুরে কথা লাগায় এলাকার মানুষ পর্যন্ত তাকে সম্মান করবে না। আর “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন” কুরআনে চৌদ্দশ বছর আগে বলে গিয়েছেন তুমি কি তোমার মরা ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করো। অর্থাৎ গীবত করা বা পরনিন্দা করা মানে হচ্ছে নিজের ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া।

সাধারণত একটা মরা মুরগি অথবা একটা মরা গরু জবাই করলে এর গোশত কি আপনি খাবেন? না  কি খাবেন না, সে ক্ষেত্রে মরা ভাইয়ের গোশত তো প্রশ্নই আসে না। তাই “আল্লাহ” বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গীবত করলো সে যেন মরা ভাইয়ের গোশত খেলো।

আমাদের সমাজে হিংসুকদের কেউই পছন্দ করেন না। এলাকার মানুষজন তাদেরকে ঘৃণা করে এমনকি পশুপাখিরাও হিংসুকদের ঘৃনা করে। তাই আমাদের যদি এই সমস্ত স্বভাব গুলো থেকে থাকে তাহলে আজ থেকেই খাস দিলে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন এই সকল অভ্যাসগুলো ত্যাগ করেন আমিন।

Add a Comment

Your email address will not be published.