কালোজিরার কিছু উপকারীতা ও গুনাগুন যা শরীরের জন্য খুবেই উপকারী

কালোজিরার গুণাগুণঃ কালোজিরার ব্যবহার বহু আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রচলিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa Linn, তবে আমাদের এই দেশে এটি কালোজিরা নামেই অত্যধিক পরিচিত। এছাড়াও কালোজিরার আরো কিছু ডাকনাম শুনতে পাওয়া যায়।

অনেকেই অনেক নামে ডাকে একে যেমন:- কালঞ্জি, কালো কেওড়া, রোমান ধনে প্রভৃতি। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন এই মূল্যবান মহা ঔষধি বীজের রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা। নিয়মিত সেবনে এটি শরীরের বাহিরে ও অভ্যন্তরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গের অনেক উপকার সাধন করে থাকে।

কালোজিরার কিছু উপকারীতা ও গুনাগুন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

১। যে সব মেয়েরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি একটি অন্যরকম ফর্মূলা। এটি একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন তারা।আপেল ভিনেগারের সাথে কালোজিরার পেষ্ট বানিয়ে ব্রনে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন, দেখুন ব্রন উধাও হয়ে গেছে। আর নিয়মিত এই পেষ্ট ব্যবহার করলে ত্বকের ময়লা যেমন পরিষ্কার হবে, ঠিক তেমনি ব্রন আর কখনোই আপনার মুখে উঠবে না।

সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার নিয়ম দুই মিনিটেই ব্যাংকা অ্যাকাউন্ট করুন

২। যাদের ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক তারা এটি গুড়ো করে তিলের তেলের সাথে ভালোকরে মিকচার করে ত্বকে লাগাতে পারেন। মাত্র সাত দিনের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন নিজেই।

কালোজিরার গুনাগুন

৩। কোলেস্টেরল কমাতে কালোজিরায় রয়েছে দারুণ ক্ষমতা। বিশেষ করে শরীরর জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এটি সাহায্য করে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা কালোজিরা খেতে পারেন। কালোজিরা রক্তচাপ কমিয়ে, রক্ত সঞ্চালন ও রক্তের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৪। যাদের ডায়াবেটিস সমস্যা রয়েছে তারা দিনে অন্তত দুই বার সামান্য পরিমান কালোজিরা খেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কালোজিরা গ্রহণে বা দিনে দুইবার খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের সুগার কমায়।

কালোজিরার গুনাগুন

৫। আমাদের দেশে চুল পড়া লোকের অভাব নেই। প্রায় সব লোকের মাঝেই এই সমস্যাটি লেগেই আছে। যাদের চুল পড়া ও চুল বাড়াতেও চায়না তারা কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল চুলের খুশকি দূর করতে ও কোষ সতেজ করে তোলে যাযর ফলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তাছাড়া এই তেল চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৬। হৃদরোগের জন্যেএটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষুধ। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা সংস্থা “Medical Science Monitor journal” প্রকাশিত একটি খবরে বলেন- যাদের হৃদরোগ রয়েছে তার প্রতিদিন সকালে কালোজিরা খেলে এই রোগ আর সেরে যাবে। এছাড়াও শিশুদের হার্ট অ্যাটাকে সংঙ্কাও কমায়। যে সকল শিশু বা প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের খিঁচুনি বা মৃগী রোগ রয়েছে তাদের এটি খেলে বিশেষ উপকার হয়। কালোজিরাতে খিঁচুনি বন্ধ করার বিশেষ উপাদান রয়েছে। যা দ্বারা এই রোগ নিয়ন্ত্রিত হয়।

ইসলামি ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম | বাড়িতে বসেই ব্যাংকে একাউন্ট করুন

অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড দেখার ও বের করার নিয়ম

৭। যেসব মানুষজন ত্বকে বয়সে ছাপ ফেলতে চান না তাদের জন্য কালোজিরা বিশেষ উপকারী উপাদান। কালোজিরায় বিদ্যমান রয়েছে লিনোলেনিক ও লিনোলেইক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড। যা তীব্র রোদের প্রখরতায় সৃষ্ট কালো দাগ মেশাতে সাহায্য করে। তাছাড়া যাদের রাত জাগার কারনে চোখের নিচে দাগ পড়েছে তা সারাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের লাবণ্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে চেহারায় আনে আলোক-উজ্জ্বল ভাব ।কালোজিরা ও মধুর পেষ্ট বানিয়ে প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এছাড়াও কালোজিরায় আরো যেসব উপকারীতা রয়েছে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, শরীরের কোষ সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ব্যাকটেরিয়া মারতে সাহায্য করে, যেকোনো ধরনের অ্যাজমা, বিভিন্ন ধরনের ব্যাথা বিশেষ করে গলাব্যাথা, স্থুলতা, অপারেশনের দাগ ও অন্যান্য যেকোনো পুরানো দাগ, মরণব্যাধি ক্যান্সার, জ্বর,কাশি,সর্দি,ব্যাথা, হাইপারটেনশন, টেনশন, শ্বাসপ্রশ্বাস সমস্যা, মাথা ধরা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে যে সব রোগ হয়ে থাকে এরকম হাজারো রোগের নিরাময় করতে সক্ষম এই কালোজিরা। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত খাবারের লিস্টে নিয়মিত কালোজিরা নিয়ম করে খাওয়া।

Add a Comment

Your email address will not be published.