আজরাইল আঃ কেন কেঁদেছিলেন সেদিন, বিশ্ব জুড়ে ভুমিকম্প কিসের লক্ষন ?

“আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ” পুরো দেশ কেঁপে উঠল ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে। বাংলাদেশ ভারত এবং মিয়ানমারের সংযোগস্থলে রিকটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প।  আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে মহান রব্বুল আলামীনের নিদর্শন। কোথাও ভূমিকম্প অথবা সূর্য গ্রহণ কিংবা ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হলে তখন মানুষের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে অতি দ্রুত তওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

আজরাইল আঃ কেন কেঁদেছিলেন সেদিন, বিশ্ব জুড়ে ভুমিকম্প কিসের লক্ষন

জীবনে সেই দিনটির কথা যখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইসরাফিল আলাইহি সাল্লামকে এরশাদ করে বলবেন, ইসরাফিল শিংগায় ফুঁক দাও। ইস্রাফিলের শিঙ্গার প্রথম ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথে পুরো পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর রকমের ভূমিকম্প শুরু হয়ে যাবে। সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত প্রথমত এবং পর্বতমালা হবে ধ্বনিত রঙ্গিন পশুর মতো চারিদিকে মানুষ দৌড়াবে। এত ভয়ঙ্কর পরিবেশ মানুষের আগে কখনো দেখেনি। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য সেদিন মানুষ উদাসীন থাকবে।

আজরাইল আঃ কেন কেঁদেছিলেন সেদিন, বিশ্ব জুড়ে ভুমিকম্প কিসের লক্ষন ?

দুই বছরের বাচ্চাকে রেখে দৌড়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করবে।  “পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে” কিয়ামতের সময় তিন মাসের গর্ভবতী মহিলারা ওর সন্তান প্রসব করে দিবে। যখন বাচ্চাগুলোর ঘটন থাকবে অপরিপক্ক অপরিণত। কিয়ামতের পূর্বে এরকম ভূমিকম্প, কেন আমাদের অন্তরে বোধোদয় হচ্ছে না। “আল্লাহ তায়ালা” তিনি ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে এরশাদ করে বলবেন, এই ইসরাফিল ইসরাফিল তুমি  শিংগায় ফুঁক দাও। দেয়ার সাথে সাথেই পৃথিবীর সকল মানুষ মারা যাবে।

সকল প্রকার জীব এবং গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে মিশে যাবে। ভূমন্ডল তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে তখন সে তার ভূমিতে মানুষ নামের বোঝা বইতে আর পারবে না।  মানুষকে উড়িয়ে দেবে সেদিন এই ভূমন্ডল রূপান্তরিত করা হবে অন্য ভূমন্ডলে। আকাশ জমিন এক হয়ে যাবে সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে। আর নক্ষত্ররাজি খসে খসে পড়বে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শুরু হয়ে যাবে, মানুষ বলবে হায় আল্লাহ কি হচ্ছে। আমাদের রক্ষা করো মা’বুদ। কিন্তু ততদিনে আমাদের গুনাহ কমানোর দিন শেষ হয়ে গেছে।

ভূমিকম্প কী,ভূমিকম্প কিভাবে সৃষ্টি হয়

এভাবে সকল প্রকার জীব ধ্বংস হয়ে যাবে।  “আজরাইল আলাইহি সালাম” এসে আল্লাহ তাআলাকে বলবে পৃথিবীর সকল প্রাণীর শেষ।  মানুষবিহীন পৃথিবী পড়ে আছে, যে পৃথিবী একদিন কোলাহলে পড়ে ছিল। আজ নেই পৃথিবী জনশূন্য হয়ে পড়ে আছে। এখন আছে শুধু জিন জাতি, তখন আল্লাহ তা’আলার আজরাইলকে বলবেন এবার তাদের জান কবজ করে এসো। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে প্রথম জিন জাতি প্রেরণ করেন। জিন রাও মানুষের মতো করেই নামাজ রোজা হজ পালন করতে থাকে।

তাই কেয়ামতের দিবসে তাদের হিসাব হবে। জিন জাতি থেকে শয়তানের সৃষ্টি হয়ে থাকে অনেকে মনে করেন জিন রা মৃত্যুবরণ করে কিনা। জিন জাতিও মৃত্যুবরণ করে এবং আজরাইল মানুষের মতো জিনদের ও জান কবচ করে থাকেন। তবে জিনদের মৃত্যু উপলক্ষ মানুষের মৃত্যু উপলক্ষে সাথে মিল নাও থাকতে পারে। সাধারণত জিনেরা জ্বলন্ত অগ্নিশিখা পড়ে মারা যায়। তাদের অসুখ হয় অসুখের অনেকের মৃত্যু হয়। আবার অনেকের সাগরে ডুবে মরে সাগরের তলদেশে চলে গেলে তারা আর ফিরে আসতে পারে না।

জান্নাত ও জাহান্নামের

কেউ কেউ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। জিনেরা যেহেতু বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে তাই ধারনকৃত আকৃতিতেও তাদের মৃত্যু হতে পারে। এভাবে কেয়ামতের দিন হযরত আজরাইল আলাইহি সালাম সকল জিনদের জান কবজ করবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, সব থেকে বেশি কষ্ট দিয়ে মারা হবে ইবলিশ শয়তান কে। যে ইবলিস শয়তান জ্বীন জাতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে পৃথিবী থেকে সকল মানুষজন পশুপাখি হারিয়ে যাবে শুধু পড়ে থাকবে .০ পৃথিবী।

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ইতিহাস

এরপর আল্লাহ তাআলা মালাইকাত মউত কে প্রশ্ন করবেন, হে আজরাইল আর কি আছে তখন বলবে এখন শুধু ফেরেশতারা। এভাবে মালাইকাত মউত বহুৎ সকল ফেরেশতাদের ১১ জন করেই জান কবজ করে নিবেন। এরপর আল্লাহ তাআলা আবারো মালাইকাত মউত কে প্রশ্ন করবেন হাজরাইল আমাকে বলো আর কি কি অবশিষ্ট আছে। মালাইকাত মউত তখন বলবে আমার আর কেউ বেঁচে নেই। মানুষ, জিন, পশুপাখি, ফেরেশতা কেউই নেই শুধুমাত্র আমার তিন সহকর্মী ফেরেশতা বাকি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, ইসরাফিল এবং মিকাইল আলাইহিসালাম।

জান্নাত ও জাহান্নামে

তারপর আল্লাহ তাআলা বলবেন যাও জিবরাঈল মিকাঈল জান কবজ করে নিয়ে আসো। আমার আদেশের অপেক্ষায় থাকত যারা আমার অনুগত ছিল। এদিকে ইসরাফিল আলাইহি সালাম অপেক্ষা করছে কখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিবে সিংগাইর তৃতীয় ফুক দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওই অবস্থায় মালাকুল মউত তার রুহ কবজ করে ফেলবে।  এভাবে বাকি তিনজন এরেস্ট করে নিয়ে আসবে। এবার মৃত্যুর ফেরেশতা মালাইকাত মউত আল্লাহর কাছে এসে বলবে হে মাবুদ মহাবিশ্বে আর কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।

নেই কোন ফেরেশতা নেই কোন জিন জাতীয় মানুষ। শুধু আমি আছি আর এ মহান মালিক আপনি ব্যতীত আর কেউ নেই। তখন আল্লাহ চিৎকার করে বলবেন এই মালাকুল মউত এবার তুমি তোমার রুহ কবজ করো। এই কথা শুনে মৃত্যুর ফেরেশতা মালাইকাত মউত প্রচন্ড জোরে চিৎকার দিয়ে বলবে হে আমার রব আমি কেন মরবো। আমি তো এতদিন সবার জান কবজ করে এসেছি, আমি কেন মরবো। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন মৃত্যুর ফেরেশতা থাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

আজরাইল আঃ কেন কেঁদেছিলেন সেদিন

“কুরআনে বলা হয়েছে কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউৎ” এখন  তোমাকেও মরতে হবে। আল্লাহ তায়লা বলবেন তুমি জান্নাত ও জাহান্নামের সামনে গিয়ে দারাও। তখন আজরাইল আলাইহি সালাম জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে করতে নিজের রূপ ধরে জান কবজ করবে আর বলবে আমি জান কবচ করেছি এত কষ্ট আমি জানতাম না। এরপর আল্লাহতালা পৃথিবীর জাগিয়ে তুলবে।

আর বিচার শুরু করার আগেই সকল ফেরেশতা, জিন জাতি এবং মানুষকে পুনরায় জীবিত করে তুলবেন। এভাবে একের পর এক বিচারকার্য শুরু হবে। প্রিয় পাঠক বিশ্ব  জুড়ে বারবার ভূমিকম্প আমাদের কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ গুলোকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আমাদের উচিত সকল নিদর্শন দেখে বেশী বেশী তওবা ইস্তেগফার করা “আল্লাহর” কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ক্ষমা চাওয়া এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা।

Add a Comment

Your email address will not be published.